বাইরের গণপরিবহন প্রবেশ ঠেকাতে মনিটরিং

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২১

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের মধ্যে আজ থেকে গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ জনগণ। এদিকে ঢাকার বাইরের গণপরিবহন যেন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে তা মনিটরিং করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (৬ মে) সকাল থেকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কাজলা, শনিরআখড়া, রায়ের বাগ ঘুরে দেখা যায়, ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী অনাবিল, লাব্বাইক, মৌমিতা, শ্রাবণ, ঠিকানা, ট্রান্স সিলভা, গ্রামীণসহ বিভিন্ন গণপরিবহন চলাচল শুরু করেছে। তবে এগুলোতে নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই। অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে চলাচলের কথা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পরিলক্ষিত হয়নি।

কথা হয় রাজধানীর পীর ইয়ামেনী মার্কেটের এক দোকানের কর্মচারী এরশাদুজ্জামান মিরাজের সঙ্গে। মিরাজ বলেন, গণপরিবহন চালু হওয়ায় সিএনজির অত্যাচার থেকে বাঁচা গেল। দোকান থেকে ভাড়া বাবদ দেওয়া হত ৩০ টাকা। কিন্তু খরচ হত ১০০/১২০ টাকা। পরিবহন চলা শুরু হওয়ায় আজ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে না।

প্রায় একই কথা বললেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আব্দুল কাহহার। তিনি বলেন, গণপরিবহন চলার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। যেহেতু ব্যাংক, গার্মেন্ট চালু আছে; আরও আগে থেকেই গণপরিবহন চলাচল শুরু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি হত না।

এদিকে বাইরের জেলা থেকে গণপরিবহন যাতে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য মনিটরিং করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ বিষয়ে কথা হয় শনিরআখড়া-কাজলায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সার্জেন্ট মো. জুয়েলের সঙ্গে।

পুলিশ সার্জেন্ট জুয়েল বলেন, সাইনবোর্ডে আমাদের চেক পোস্ট আছে। সেখানে ঢাকার বাইর থেকে আসা গণপরিবহন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা ফ্লাইওভারের এখানে দায়িত্ব পালন করছি। এখন পর্যন্ত ঢাকা বাইরে কোন গণপরিবহন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে সাতদিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করেছিল। পরে তা আরও দুদিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি আশানুরূপ নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। সেটি পরে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। এরপর আবার তা ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়, যা আবার বাড়ল। তবে গত ২৫ এপ্রিল থেকে দোকান ও শপিংমল খুলে দেওয়া হয়েছে। খোলা রয়েছে ব্যাংকও। এছাড়া জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অফিসগুলোও খোলা আছে।