কাগজ থাকলেও মামলা দিচ্ছে পুলিশ, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২১

রাজধানীর কলাবাগানে মিরপুর রোডে চেকপোস্ট বসানোর কারণে সড়কে যানজট তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে কলাবাগান-নিউমার্কেট সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিটি গাড়ি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সব গাড়ি যাচাই করায় দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়েছেন বহু মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, আসাদগেট-কলাবাগান হয়ে নিউমার্কেট যেতে এই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পান্থপথের দিকে যেতে কোনো চেকপোস্ট নেই। প্রয়োজনীয় কাগজ থাকলেও মুভমেন্ট পাস না থাকায় মামলা খেতে হচ্ছে। নির্ধারিত কারণ ও কাগজপত্র থাকার পরেও মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ কয়েকজনের।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ, আমরা বের না হলে খাব কী। বাসায় বাচ্চার দুধ কিনতে হবে। ইনকাম না করলে কীভাবে দুধ কিনব। রাস্তায় বের হলে মামলা খেলে মালিকও দায় নেবে না বলে জানিয়েছে। আর কতদিন বাসায় বসে থাকব। আমাদের কে খাওয়াবে।

কলাবাগান ট্রাফিক চেকপোস্টে দেখা যায়, ১০-১২ জন সার্জেন্ট ও ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্টে যানবাহনের কাগজপত্র দেখছেন। তারা সড়কের যান চলাচলের গতিরোধ করে যাচাই-বাছাই করছেন। মুভমেন্ট পাস না থাকলে মামলা ও রেকার বিল হাত ধরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

কথা হয় এক ভুক্তভোগী সিএনজিচালক নান্নু মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, লকডাউনে কতদিন ঘরে বসে থাকব। লকডাউনের আগে বাজার করে রেখেছিলাম। কিন্তু বাচ্চার দুধ শেষ হয়ে গেছে। আজকেই প্রথম বাসা থেকে বের হয়েছি। কী করব, ৭০০ টাকা ভাড়ায় একজনকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলাম।

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ১ টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছি এসে মামলা খেলাম ১২০০ টাকার। কোথা থেকে মামলার টাকা দেব বুঝতে পারছিলাম না। পরে আমার ভাইকে ফোন দিয়ে ৫০০ বিকাশে আনলাম। আর যাত্রীর কাছ থেকে ৭০০ টাকা দিলাম। চেকপোস্টে আটকে তারা হাদিয়া রাখল ১২০০ টাকা। আমার বাচ্চার দুধ কিনব কোথা থেকে। এভাবেই বলছিলেন আর বিলাপ করছিলেন সিএনজিচালক।

তিনি আরও জানান, পাশেই পান্থপথের দিকে গাড়ি যাচ্ছে। তাদের মামলা দেওয়া হয় না। এটা আমাদের হয়রানি ছাড়া অন্য কিছু না।

সিএনজি যাত্রী মো. রায়হান বলেন, আমি পুলিশকে বললাম আমার রোগী আছে ল্যাবএইডে। মামলা দিয়েন না। তারা আমার কোনো কথা শুনল না। সিএনজিচালকের হাতে ১২০০ টাকা রেকার বিল ধরিয়ে দিল।

তিনি আরও বলেন, চেকপোস্টে পুলিশ কোনো কথা ছাড়াই মামলা ও রেকার বিল হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে। শুধু এখানে চেকপোস্ট বসিয়ে মামলা দিচ্ছে। মিরপুর থেকে এসেছি অন্য কোথাও চেকপোস্ট চোখে পড়ল না।

এ বিষয়ে কথা হয় সার্জেন্ট আবিরের সঙ্গে। তিনি জানান, আমাদের কিছু করার নেই। এখানে সিনিয়র স্যারেরা আছেন। আমরা শুধু নির্দেশ পালন করছি। আমাকে গাড়ী ধরে কাগজ দিচ্ছে। আর আমি মামলা দিচ্ছি।

জানতে চাইলে ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. মাহফুজ বলেন, অফিস টাইমে চাপ বেশি থাকায় যানজট হচ্ছে। তবে সরকারি নির্দেশ মানতে গিয়ে এই যানজট হচ্ছে। যাতায়াতকারীরা সামান্য ভোগান্তি মেনে নিচ্ছেন। অযথা যারা মুভমেন্ট পাশ ছাড়া বাসা থেকে বের হয়েছেন আমরা তাদের মামলা দিচ্ছি। সরকারি নির্দেশ পালন করছি মাত্র।