ছাত্র অধিকার পরিষদের ১২ নেতাকর্মী দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২১

রাজধানীর শাহবাগ থানার পৃথক দুই মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ১২ নেতাকর্মীর দ্বিতীয় দফায় দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী শুনানি শেষে (ভার্চুয়ালি) রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১৯ এপ্রিল শাহবাগ থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ক্রীড়া সম্পাদক আরেফিন হোসেন ও তাওহীদুল ইসলাম শিপনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক শাহজাহান মিয়া।

অপরদিকে,ঢাকা মেডিকেল থেকে আবুল কালাম আজাদ নামে এক আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শাহবাগ থানায় করা মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক সজল ও ঢাকা কলেজ শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল করিম সোহাগকে গ্রেফতার দেখানোসহ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম খান। একই মামলায় গাজীপুর থেকে গ্রেফতার আসাদুজ্জামান, মোমিন আকন্দ, আরিফুল ইসলাম, শিপন ও রোকেয়া জাবেদ মায়াকে গ্রেফতার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়।’

এ সময় আসামিপক্ষে আইনজীবী সিরাজুল ইসলামসহ আরও অনেকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেক আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন

শুনানির সময় কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে আসামিদের ভার্চুয়ালি উপস্থিত দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে থেকে জানা যায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৫ মার্চ মতিঝিলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ একটি মিছিল বের করে। সেই মিছিল থেকে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। আটক ওই ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পুলিশ চিকিৎসা দিতে নিয়ে গেলে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই দিনেই শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন পল্টন মডেল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক রায়হান করিব। মামলায় ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান, ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান, সোহরাব, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়।

সর্বশেষ গত ২৭ মার্চ প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের উপর হামলা, মারধর, হত্যাচেষ্টার পাশাপাশি বিষ্ফোরক আইনের অভিযোগও আনা হয়।