কোথাও গেটে তালা, কোথাও স্বাস্থ্যবিধি উধাও

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২১

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এবারও রোজায় মসজিদে তারাবির নামাজ আদায়ে মুসল্লির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে সরকার। খতিব, ইমাম, হাফেজ ও মুয়াজ্জিনসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন তারাবিতে। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও দেওয়া হয়েছে একই নির্দেশনা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কোথাও ২০ জন পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও তালা না দিলেও তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় হচ্ছে। আবার কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই দেখা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) সরেজমিনে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের পাশে পশ্চিম মানিকদীর বাগানবাড়ীতে অবস্থিত আল ফাতাহ মসজিদ মাগরিব ও তারাবির নামাজে দুই তলা কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। তবে প্রথমে এ মসজিদে প্রতি তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে মুসল্লিদের দাঁড়াতে দেখা যায়। তবে শেষ সময়ে মুসল্লিদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দোতলার পেছনের সাড়িতে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি।

dhakapost

নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম খাইরুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্দেশনা দেওয়ার পর প্রথম দিন ২০ জন নিয়ে নামাজ আদায় করেছি। কিন্তু মুসল্লিরা রাস্তায় নামাজ আদায় করেন। এরপর এলাকাবাসীর চাপে মসজিদ কমিটি ভেতরে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করেন।

একই এলাকায় দক্ষিণ মানিকদীর সবুজ ছাতার গলিতে অবস্থিত মানিকদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। ছিল না কোন দূরত্ব। মসজিদে তিনশ মুসল্লির নামাজ পড়ার ব্যবস্থা থাকলেও নামাজ আদায় করেছেন পাচঁশরও বেশি।

এলাকাবাসী জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় মাত্র দুটি মসজিদ রয়েছে। এ মসজিদটি একতলা। রমজানের শুরুর দিন মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মানানো গেলেও আজ কেউ মানেননি। কিছু করার নেই। কারণ নামাজের মত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাউকে নিষেধ করা যায় না। তবে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতে ইমামকে বলা হয়েছে।

dhakapost

এছাড়াও বুধবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর লালবাগের ইসলাম জামে মসজিদ, বায়তুল আমান জামে মসজিদে ঘুরে স্বাস্থ্যবিধি ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনা মানতে দেখা যায়নি। মুসল্লিদের দাবি, তারাবির নামাজ বাসায় পড়তে তারা অভ্যস্ত না। মসজিদে আদায় করার মধ্যে অন্যরকম একটি তৃপ্তি। তাই জামাতে নামাজ আদায় করতে তারা মসজিদে এসেছেন।

ইমামরা বলছেন, মুসল্লিদের অনুরোধ জানালেও তারা এ নির্দেশনা মানতে নারাজ। সর্বশেষ মসজিদে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করেন সে অনুরোধ করেন। কিন্তু মুসল্লিদের চাপে সেটি উপেক্ষিত।

দেশের করোনা পরিস্থিতি বাড়তে থাকায় গত সোমবার (১২ এপ্রিল) সরকারের বিধি নিষেধের পর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে মসজিদে ইমাম, খতিবসহ সর্বোচ্চ ২০ জন নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদের জারি করা ১৮ দফা নির্দেশনার আলোকে ১০ দফা নির্দেশনাও বহাল থাকবে বলে জানানো হয় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।