নতুন ধরনে কানাডায় সংক্রমণ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০২১

কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশটিতে অদৃশ্য এ ভাইরাস আতঙ্কের সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন ধরন, যা ঠেকাতে সরকারকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কানাডার অন্টারিওতে ‘স্টে হোম অর্ডার’ রীতি মেনে চলতে হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মন্ট্রিয়লের কয়েকটি সিটিতে লকডাউন চলছে।

কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, অন্টারিও, মন্টিয়ল এবং আলবার্টায় করোনার নতুন ধরন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনার কারণে গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্ত বন্ধ রয়েছে, তবে জরুরি কিছু সার্ভিস চালু রয়েছে।

কানাডার চিফ পাবলিক হেলথ অফিসার ড. থেরেসা ট্যাম কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কানাডা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের চূড়ান্ত অবস্থার দিকে এগোচ্ছে। যদিও করোনার বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেক প্রভিন্সের মেডিকেল অফিসাররা তৃতীয় ঢেউ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ড. ট্যাম বলেন, ছোঁয়াচে নতুন ধরনের উপস্থিতি মহামারির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রভিন্স ও ফেডারেল থেকে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলার কোনো বিকল্প নেই।

ড. ট্যাম উল্লেখ করেন, গত সাতদিনে ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ২৭ ভাগ। তিনি আশঙ্কা করছেন, জনগণ যদি সচেতন না হয়, তবে এ মাসের শেষে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। যা মোকাবিলা করা কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য খুবই কষ্ট সাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও বলেন, ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সের মানুষের আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। এছাড়া গত তিন মাসে ইনটেন্সিভ কেয়ারে ১৮ থেকে ৩৯ বছরের আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল শতকরা ৭ ভাগ এবং মার্চে এ সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫ ভাগে।

প্রদেশগুলোতে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাস্থ্য সুবিধার স্বল্পতার কারণে হাসপাতালগুলোতে কিছুটা কম গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। এই সংকটকালীন মহামারির সময়কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে ড. থেরেসা ট্যাম দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানান।

কানাডায় গত বছর মার্চ মাসে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় দেশটির ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে। তারপর থেকে এপর্যন্ত ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

কানাডা সরকার দেশটির নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া নাগরিকরা যেন দ্রুত ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসতে পারে সেজন্য পদক্ষেপ নিয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩ হাজার ৪শ ৪৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫শ ৬ জন।