ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি ও আইনি সহায়তা সেল করবে হেফাজত

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৪, ২০২১

নানা ইস্যু নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে রাজপথ দখলে রেখে হেফাজতে ইসলাম। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যেখানে কর্মসূচি দিয়ে মাঠে টিকতে পারছেন সেখানে অনেকটাই সফল ধর্মভিত্তিক এই সংগঠন।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক রিসোর্টে ধরা পড়ার পর হঠাৎ ধাক্কা খেয়েছে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রম। তদুপরি সংগঠনটি সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা আটক হয়েছেন। অনেকে গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। এমতাবস্থায় সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে হেফাজত।

ধরপাকড়, মামলা, গ্রেপ্তার ও সরকারের চাপ মোকাবিলায় নানা তৎপরতা শুরু করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। তারা দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন, জেলায় জেলায় আইনি সহায়তা সেল গঠন এবং বিভিন্ন দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়াসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া সমমনা ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করবে হেফাজত।

রোববার হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

হেফাজত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে হেফাজতের কমিটি রয়েছে। এর বাইরে সারা দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করাসহ সংগঠনকে এগিয়ে নিতে ‘সাংগঠনিক সেল’ গঠিত হয়। এই সেলের দায়িত্ব দেওয়া হয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবিব, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসেনকে। তাদের মধ্যে ইসলামাবাদী বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পর গ্রেফতার হন।

জুনায়েদ আল হাবিব বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সাংগঠনিক সেলের মাধ্যমে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সারা দেশের কমিটিগুলোর কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য রোববারের সভায় তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার নেতা–কর্মীদের মুক্তি ও মামলা পরিচালনার জন্য আইনি সহায়তা সেল গঠনের সিদ্ধান্ত হয় ওই সভায়। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় দুই থেকে তিন সদস্যের আইনি সহায়তা সেল গঠন করা হবে আইনজীবীদের নিয়ে। হেফাজতের কার্যক্রম, মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।