প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে ফাঁসলেন নিজেই

প্রকাশিত: এপ্রিল ৯, ২০২১

জমিজমার বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ দুই পুত্রকে অপহরণ দেখিয়ে মামলা করে অবশেষে ফেঁসে গেছেন ভোলার রাজাপুর ইউনয়িনের শ্যামপুরের রফিকুল ইসলাম বেপারী। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আলম।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে দায়ের করা দুটি পৃথক অপহরণ মামলায় নিজের তিন ভাইসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। বিনা দোষে এরা কারাভোগ করেন। এ নিয়ে আজ শুক্রবার এলাকাবাসী রফিকের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।

অপরহরণ মামলার তিন বছর পর আত্ম গোপনে থাকা রফিকুল ইসলামের দুই পুত্র ঈমাম হোসেন ইমন (১০) ও নাজিম উদ্দিনকে (২৫) নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া ঈমাম হোসেন ও নাজিম উদ্দিন জানায়, তারা অপহৃত হননি। তাদের পিতা মামলা সাজাতে তাদেরকে প্রথমে চট্টগ্রামে পরে ঢাকায় ও নারায়ণগঞ্জে পাঠিয়ে দেন।

নারায়ণগঞ্জে ঈমাম হোসেনের নাম পাল্টে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। অপরদিকে নাজিম উদ্দিনও নাম পাল্টে একটি ফার্মে চাকুরি নেয়।

আদালত দুই ভাইকে নিরাপদ হেফাজতে পাঠানোর পাশাপাশি পিতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। এদিকে আদালতের নির্দেশের পর পালিয়ে যান রফিকুল ইসলাম।

রফিকুল ইসলাম ও বাড়ির অন্যরা পলাতক থাকলেও বাড়িতে থাকা তার স্ত্রী দাবি করেন, তার ছেলেদের প্রকৃতপক্ষেই অপহরণ করা হয়েছিল।

ইউপি মেম্বার হেলাল উদ্দিন জানান, রফিকুল ইসলাম বেপারী এলাকার বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জমিজমা হাতিয়ে নিতে থাকে। গত ৩ বছর অপহরণ মামলায় আটক হন ৯ জন। এরা বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন।

এনএস/