স্কুল ছাত্র মোঃ রিফাত কে ভিকুযন্ত্র দিয়ে হত্যার প্রতিবাদী মানববন্ধন

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২১

৩১ মার্চ, ২০২১ইং রোজ বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উদ্যোগে “পটুয়াখালী জেলা দশমিনা উপজেলার চর মাছুয়াখালী গ্রামের স্কুল ছাত্র মোঃ রিফাত কে ভিকুযন্ত্র দিয়ে চালক রিপন গং হত্যা করায় তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি এবং বে-আইনিভাবে ধান ক্ষেত বসতবাড়ীর মাটি কাটা বন্ধের দাবিতে নাগরিক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা’র সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার, বাংলাদেশ মেধা বিকাশ সোসাইটির চেয়ারম্যান এস.এম আনোয়ার হোসেন অপু, সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন জুয়েল, শেরে বাংলা গবেষনা পরিষদের মহা সচিব আর কে রিপন, অগ্রগামী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালনক গোলাম ফারুক মজনু, জাগো বাংলাদেশ শিশু কিশোর ফেডারেশনের সভাপতি জামাল সিকদার, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুস সাকিম, মোঃ বাবলু, এস.এম সোহেল সহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও নিহত রিফাতের পিতা জাফর আলী, চাচা চাঁন মিয়া, মাওলানা আব্দুল আজিজ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, বিভিন্ন সময়ে খবরের পাতা খুললেই দেখা যায় ভিকু যন্ত্র দিয়ে এক শ্রেনীর অবৈধ মালিক ও চালক এবং ব্যবসায়ী সাধারণ কৃষকের কৃষিজমি ও বসতভিটা অবৈধভাবে ইচ্ছামত কেটে ক্ষতি করছে তারা ব্যক্তিগত ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদেরকে কেউ কিছু বলার সাহস দেখায় না। এই সুযোগে যেমন কৃষি জমির ক্ষতি হচ্ছে অন্য দিকে তাদের বে-পরোয়া ভিকুযন্ত্র চালানোর কারণে অনেকের জীবনও যাচ্ছে।
পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার চর মাছুয়া খালী গ্রামের নবম শ্রেনীর স্কুল ছাত্র দরিদ্র কৃষক জাফরের ছেলে মোঃ রিফাত কে ভিকুযন্ত্র দিয়ে চালক রিপন গং গত ৩১ জানুয়ারী ২০২১ ইং তারিখে হত্যা করায় তাদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি, সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হওয়ার পরেও এখনও কি কারণে গ্রেফতার করা হয়নি তা আমাদের বোধ গম্য নয়। আইন সবার জন্য সমান।

কিন্তু যখন প্রভাবশালীদের জন্য আইন প্রয়োগ করা হয়না তখন আমাদের রক্তক্ষরন হয়। দশমিনা উপজেলার চর মাছুয়াখালী গ্রাম সহ বিভিন জায়গায় সাধারণ কৃষকের ধানক্ষেত-বসতবাড়ীর মাটি বে-আইনিভাবে কেটে নিয়ে যাচ্ছে, বিভাগীয় কমিশনারসহ স্থানীয় সংশ্লিষ্ট প্রসাশনকে জানানোর পরেও কোন প্রতিকার না পাওয়ায় গ্রামবাসী যখন হতাশ ও কিংকর্তব্য বিমূঢ় তখন কৃষক জাফরের ছেলের জীবন দেওয়ার পরেও মাটিকাটা বন্ধ হয়নি। তাদের এই ক্ষমতার উৎস কোথায়? জাতি জানতে চায়। অভিলম্বে এই হত্যাকান্ডের বিচার ও মাটিকাটা বন্ধ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি।

নিহত রিফাতের বাবা জাফর আলী বলেন, মোর সন্তান হারিয়ে মুই পাগল হইয়া গেছি, কার জন্য এখন মুই বাইচ্চা থাকমু। মোর আর কিছু চাওয়া পাওয়া নাই। মুই প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোর সন্তান হত্যার বিচার চাই।