বৃদ্ধার নাকে পোকার বাসা

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২১

বয়স ৯৫ পেরিয়েছে। সব কিছু ঠিকভাবে করতে পারেন না কুমুদিনী বালা। কয়েক মাস আগে অসাবধানতাবশত তার নাকের মধ্যে মাছি ঢুকে যায়। সেখানে ডিম পেরে বংশ বিস্তারও করে মাছি। কয়েকদিন ধরে নাকে চুলকানি ও ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধা কুমুদিনী বালা। নাক থেকে ছিটকে পড়ছিল জীবন্ত পোকা। অবশেষে তার নাকের ভেতরের পোকার বাসা অস্ত্রোপচার করে ভাঙতে হলো ডাক্তারকে।

গত শনিবার (২৭ মার্চ) রাতে নগরীর রয়েল সিটি হাসপাতালে কুমুদিনী বালার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তিনি বর্তমানে ওই হাসপাতালের ৪০৯ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) তিনি বাড়ি ফিরবেন বলে জানা গেছে।

কুমুদিনী বালা পটুয়াখালী সদর উপজেলার কাকড়াবুনিয়া এলাকার মৃত অমূল্য চন্দ্র হালদারের স্ত্রী।

কুমুদিনী বালার ছেলে মন্টু হালদার বলেন, গত শনিবার সকালে মায়ের নাক থেকে পোকা পড়তে দেখে তাকে পটুয়াখালীর প্রাইম ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকে নিই। সেখানকার ডাক্তার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে তাকে বরিশালের রয়েল সিটি হাসপাতালে ওইদিনই ভর্তি করা হলে রাতে ডা. খান আব্দুর রউফ অস্ত্রোপচার করে অর্ধশতাধিক পোকা বের করেন। পরে আরও কিছু পোকা বের হয়।

মন্টু আরও বলেন, প্রথমে আমরা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম পচন ধরেছে। কিন্তু ডাক্তার জানালেন মাছি ডিম পেরে এই কাজ করেছে। অস্ত্রোপচারের পর ডাক্তার ৫০-৬০টি পোকা গুনে দেখিয়েছেন।

তিনি জানান, পটুয়াখালী সদর উপজেলার কাকড়াবুনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ি। ছোটবেলায় বাবা অমূল্য চন্দ্র হালদারকে হারিয়েছেন। তারা মা রয়েল সিটি হাসাতালের ৪০৯ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আজ ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরবেন।

কুমুদিনী বালার চিকিৎসক নাক, কান, গলা, ঘাড় ও মাথা বিশেষজ্ঞ ডা. খান আব্দুর রউফ জানান, নাক-কান অপরিচ্ছন্ন রাখলে ক্ষতিকর কীট যেমন মশা, মাছি সেখানে ডিম পেরে বংশ বিস্তার করতে পারে। মূলত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের দিকে এমন ঘটনা বেশি ঘটে। এজন্য বয়স্ক ও শিশুদের মশারির মধ্যে রাখা ভালো। তাছাড়া বাড়তি যত্নও নিতে হবে।

কুমুদিনী বালার বিষয়ে তিনি বলেন, রোগী এখন সুস্থ আছেন। সঠিকভাবে তার যত্ন নেওয়া হয়নি বিধায় মাছি নাকের ভেতর ঢুকে বংশ বিস্তার করেছিল। এই রোগটিকে বলে ম্যাগট ইন দ্য নোস বা ন্যাজাল মিয়াসিস।