ছিটমহলে ডিসেট সেন্টার চালু, উদ্যোক্তা হবেন তরুণ তরুণীরা

প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২১

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হতে যাচ্ছে বিলুপ্ত ছিটমহল। প্রযুক্তির নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেরাই উদ্যোক্তা হতে পারবেন ছিটমহলের তরুণ-তরুণীরা। তাদের আর ছুটতে হবে না ঢাকা ও বিদেশের পথে।

এখন থেকে ডিজিটাল সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং (ডিসেট) সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছিটমহলের অনেকেই উদ্যোক্তা বনে যেতে পারবেন। তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণ সেন্টার চালু হয়েছে।

সোমবার (২৯ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে সেন্টারটি উদ্বোধন করেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়িত সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোতে আইসিটি প্রশিক্ষণ এবং অবকাঠামো স্থাপন শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ডিজিটাল সার্ভিস এমপ্লয়মেন্ট ট্রেনিং (ডিসেট) সেন্টারের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আমরা চেয়েছি এই সেন্টারগুলোতে যেন ওই এলাকার মানুষ সরকারের সেবা পায়। পাশাপাশি তরুণ জনগোষ্ঠী যেন আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ পায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে চাই আমরা। তরুণদের কর্মসংস্থানের জায়গা তৈরি হলো এ সেন্টার চালুর মাধ্যমে।

পলক জানান, এসব সেন্টারে কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ মডিউল স্থাপন করা হয়েছে। নতুন বিজনেস মডিউলে এখানে যারা উদ্যোক্তা হবেন, তারা কিন্তু প্রশিক্ষণ দিয়েও আয় করতে পারবেন। এখানে উচ্চগতির ইন্টারনেট থাকবে। ফলে সাইবার ক্যাফে হিসেবেও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।

আগামী দিনের প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষম প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে বসেও যেন সবাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পেতে পারে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তারা নেতৃত্ব দিতে পারে সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। তাদের যেন ঢাকা ও বিদেশমুখি না হতে হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মজীবনে প্রবেশ করে। তাদের যেন ঢাকা ও বিদেশের দিকে যেন ছুটতে না হয় বা কোনো চাচা-মামা-খালুর সুপারিশে চাকরির পেছনে ছুটতে না হয়। তারা যেন নিজেরাই উদ্যোক্তা হতে পারে। এসব লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু বর্তমান সরকার কাজ করছে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছে। করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ই-কমার্সে লক্ষাধিক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

তিনি বলেন, এসব কারণে আমরা বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকায় আমাদের প্রকল্পের আওতায় ৯০০ তরুণ-তরুণীকে বেসিক আইসিটি ট্রেনিং দিয়েছি। ৩০০ জনকে আইটি সাপোর্ট টেকনিশিয়ান হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এছাড়া ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকায় মফিজুর রহমান কলেজ সংলগ্ন এবং ফুলবাড়ি কুড়িগ্রাম সংলগ্ন দাশিয়া ছিটমহলে দুটি ডিসেট সেন্টার চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এর সংখ্যা বাড়বে।