সহকর্মীর সঙ্গে ‘প্রেমের’ সম্পর্ক, আত্মহত্যার চেষ্টা নার্সের

প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২১

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল) একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স বিভিন্ন ধরনের তরল বিষাক্ত ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। গত ৩ মার্চ হাসপাতালের ভেতরে অবস্থিত আবাসিক কোয়ার্টারে এ ঘটনা ঘটে।

অসুস্থ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দিয়ে পরদিন গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি যাতে বাইরে প্রকাশ না পায় সেজন্য কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করে। সম্প্রতি ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক সেবাকর্মী জানান, হাসপাতালের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় সরকারের সঙ্গে ওই নার্সের ‘প্রেমের’ সম্পর্ক তৈরি হয়। বিজয় সরকার বিবাহিত এবং ৪ বছরের এক কন্যাসন্তানের জনক। তিনি পরিবার নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে আবাসিক কোয়ার্টারের তৃতীয়তলায় থাকেন। প্রায় ৮-৯ বছর পূর্বে তিনি এ হাসপাতালে যোগদান করেন। হাসপাতালের স্টোররুমের ইনচার্জ তিনি।

অন্যদিকে প্রায় ৩ বছর পূর্বে স্টাফ নার্স হিসেবে যোগদান করেন সুরভী রানী মণ্ডল (২২)। একই কার্যালয়ে থাকার সুবাদে এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তাদের মধ্যে শারীরিক মেলামেশাও হয়।

সম্প্রতি সুরভী রানী বিয়ের জন্য বিজয় সরকারকে চাপ দেন। বিজয় এতে সম্মত না হওয়ায় অভিমানে সুরভী ৩ মার্চ রাতে নিজের কোয়ার্টারে বিভিন্ন ধরনের তরল বিষাক্ত ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে অন্য সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

এ ঘটনার পর বিষয়টি যাতে বাইরে প্রকাশ না পায় সেজন্য বিজয় সরকার ও সুরভী রানী মণ্ডলকে ছুটি দিয়ে যার যার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ছুটি শেষে এক সপ্তাহ আগে বিজয় সরকার ও তিন দিন আগে সুরভী রানী মণ্ডল কাজে যোগদান করেছেন।

এদিকে দুই সহকর্মীর এ ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে চাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার হাসপাতালে গিয়েও সুরভী রানী মণ্ডলের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে বিজয় সরকার মোবাইল ফোনে বলেন, সুরভী রানী মণ্ডলের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এ রকম কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

একপর্যায়ে তিনি এ ব্যাপারে হাসপাতাল প্রধানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ ডা. মশিউর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; যা যা করা দরকার আমরা করছি।

ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু ওই নার্স বা কারও পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব। তারপরও আমরা নিজেরা এ ব্যাপারে বসে মিটিং করেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ওই নার্সের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি মুখ খুলছেন না।