বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না নেপাল

প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২১

বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের অনুশীলন দেখতে ভিড় করেছিলেন নেপালের ফুটবল ও ফেডারেশন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। কেউ কেউ আবার ফুটবলারদের বেশ কাছাকাছি অবস্থানেও ছিলেন। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, নেপালে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে গত কয়েকদিনে। চলমান এই পরিস্থিতিতে ত্রিদেশীয় আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে করোনা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এক বড় চ্যালেঞ্জ অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আনফা) জন্য।

আনফা স্বাগতিক নেপাল, বাংলাদেশ ও কিরগিজস্তানের কন্টিনজেন্টকে টুর্নামেন্টের শুরুতে একবার করোনা পরীক্ষা করিয়েছে। এরপর টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময় আর পরীক্ষা হবে না। বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে পুনরায় করোনা পরীক্ষা করার ব্যাপারটি আজ ম্যানেজার্স মিটিংয়ে উঠিয়েছিলেন।

ম্যানেজার্স মিটিংয়ে প্রাপ্ত উত্তর সম্পর্কে ঢাকা পোস্টকে সাবেক এই জাতীয় ফুটবলার বলেন, ‘আমরা জানতে চেয়েছি, এক ম্যাচের পর বা অন্য ম্যাচের আগে পুনরায় পরীক্ষা হবে কি না। আয়োজকরা জানিয়েছেন তারা টুর্নামেন্ট চলাকালে আর পরীক্ষা করাবে না। টুর্নামেন্ট শেষে সফরকারী দুই দেশকে দেশে ফেরার আগে পরীক্ষা করতে হবে।’

বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখলেও নেপাল ফুটবল দলের ম্যানেজার মধুসূদন উপাধায়া এতে খুব বেশি ঝুকি দেখছেন না অবশ্য, ‘যারা নেগেটিভ তারাই শুধুমাত্র মাঠে থাকবে এবং সবারই নেগেটিভ সার্টিফিকেট রয়েছে।’ অল নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কম্পিটিশিন ও মিডিয়া বিভাগও টুর্নামেন্ট চলাকালে পুনরায় করোনা পরীক্ষা না হওয়ার কথা জানিয়েছে।

গত বছর নভেম্বরে বাংলাদেশ নেপালের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের সিরিজ আয়োজন করেছিল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন প্রথম ম্যাচের পর ও দ্বিতীয় ম্যাচের আগে দুই দলের সবাইকে করোনা পরীক্ষা করিয়েছিল। সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের ব্রিটিশ হেড কোচ জেমি ডে পজিটিভ হয়েছিলেন। তিনি শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ম্যাচের ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি।

পাঁচ বার পরীক্ষার পর জেমি পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হয়েছিলেন। নেপালের ম্যানেজার মধু নেপাল ফেরার আগে ঢাকায় পজিটিভ ধরা পড়ায় বাংলাদেশে একা বাড়তি দুই সপ্তাহের মতো ছিলেন।

বাংলাদেশ নভেম্বরে সীমিত সংখ্যক দর্শক উন্মক্ত করেছিল। নেপাল বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি দর্শকদের প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। ১৫ হাজার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন দশরথ স্টেডিয়ামের সাড়ে বারো হাজার টিকিট বিক্রয়যোগ্য। করোনা পরিস্থিতির জন্য আড়াই হাজার আসন ফাঁকা রাখছে নেপাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম সাতশ টাকা আর ভিআইপি পনেরশ টাকা।

টুর্নামেন্টে কোনো টাইটেল স্পন্সর না থাকলেও চ্যাম্পিয়ন দল পাঁচ হাজার ডলার, রানার্স আপ তিন হাজার, টুর্নামেন্ট সেরা ফুটবলার পাঁচশ ডলার ও প্রতি ম্যাচের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ জয়ী ফুটবলার পাবেন আড়াইশ ডলার।

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে আজ কাঠমান্ডুতে করোনা টেস্ট করানো হয়েছে। আগামীকাল দুপুরের আগেই জামালের করোনার ফলাফল পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর আগেই তিনি আজ বিকেলে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন।

নভেম্বরে বাংলাদেশে খেলা দুই ম্যাচ সিরিজে করোনা সংক্রান্ত দুটি উদাহরণ থাকার পরও নেপাল ফুটবল ফেডারেশন এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কিছুটা উদাসীনই। হয়তো পরিস্থিতি পরিবর্তন বা সামনে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতেও পারে প্রয়োজনে।