নদীর পানি বণ্টনে সহযোগিতার আশ্বাস ভারতের

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২১

নদীর পানি বণ্টন, দূষণ রোধ, নদীর বাধ সুরক্ষা, বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নদীর অববাহিকা ও পানিসম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন সঙ্কটের সমাধানে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে এসব সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঐক্যমতে পৌঁছেছে উভয় দেশ। দুই দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যায়ের বৈঠকের পর বুধবার আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে এই ঐক্যমতে পৌঁছানোর তথ্য জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যৌথ নদী কমিশনের আওতায় দুই দেশের সচিব পর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির জল শক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব পঙ্কজ কুমার। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব কবির বিন আনোয়ার।

দিল্লি বৈঠকে পানি সঙ্কট সমাধানে দুই দেশের বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্কের প্রশংসা করেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ এবং ভারতের মাঝে অভিন্ন ৫৪টি নদী প্রবাহমান রয়েছে। এসব নদী দুই দেশের মানুষের জীবন-যাপনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নদীর পানি বণ্টন, দূষণ প্রশমন, নদীর তীর সুরক্ষা, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদীর অববাহিকাসহ পূর্ণাঙ্গ পানি-সম্পদ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কাঠামো তৈরি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছেছে উভয় দেশ। এসব বিষয়ে একটি যৌথ টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তাদের বৈঠক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

সূত্রগুলো বলছে, বৈঠকে উভয় পক্ষ মানু, মুহুরি, খোয়াই, গোমতি, দুধকুমার এবং ধরলা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা করছেন।

বন্যার পূর্বাভাষ সংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

বিভিন্ন পর্যায়ে পানি বণ্টন সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত এবং বাংলাদেশের মাঝে শক্তিশালী একটি ব্যবস্থা আছে। দ্বিপাক্ষিক পানি সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৭২ সাল থেকে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে।

দুই দেশের অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সর্বাধিক ফলপ্রসূ যৌথ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যোগাযোগ রক্ষায় এই কমিশন গঠন করা হয়েছিল। এই কমিশনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মন্ত্রী, সচিব এবং কৌশলগত বিশেষজ্ঞদের মাঝে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ দু’দিনের সফরে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওইদিন স্বাধীনতা দিবসের প্রধান অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

সূত্র: পিটিআই।