ডলারের লোভে অশ্লীল ভিডিও আপলোড করতেন তারা

প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২১

ফেসবুক-ইউটিউবে অশ্লীল ভিডিও আপলোড করার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বেশি ভিউসের মাধ্যমে বেশি ডলার উপার্জনের লোভে তারা ভিডিও আপলোড করতেন।

গ্রেফতাররা হলেন- কমেন্ট মিডিয়ার পরিচালক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও প্রযোজক মো. মনির হোসেন রাজু, কেএমএইচ টিভির পরিচালক, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও প্রয়োজক ও অভিনেতা কাজী মনির হোসেন, ক্যামেরাম্যান রফিকুল ইসলাম, চ্যানেল এস কে আগুনের পরিচালনাকারী ও অভিনেতা এস কে আগুন এবং বিভিন্ন অশ্লীল ভিডিওর অভিনেতা ও পরিচালক আসিফ আরাফাত।

বিজ্ঞাপন

সিআইডি বলছে, তাদের এমন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় নেতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহারকারী সচেতন নাগরিকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর নজরদারি শুরু করে সিআইডি। নজরদারির এক পর্যায়ে যারা ভিডিও ছাড়াচ্ছেন, তাদের ধরতে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে ওই পাঁচজনকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করে সাইবার পুলিশ ইউনিট। এসময় তাদের কাছ থেকে অশ্লীল ভিডিও তৈরিতে ব্যবহৃত ক্যামেরা, হার্ডড্রাইভ, পেনড্রাইভ ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেলে সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশ ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান। তিনি বলেন, সাইবার পুলিশের তদন্তে অশ্লীল ভিডিও তৈরির সঙ্গে জড়িত এমন আরও ১৫ থেকে ১৬টি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করে আসছিলেন গ্রেফতাররা। তারা দেশের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্ট ভাড়া নিয়ে এসব ভিডিও তৈরি করতেন। তারা এসব কন্টেন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় করেছেন।

ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে জানিয়েছে, তারা আগ্রহী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে এ ধরনের অশ্লীল ভিডিও তৈরির কাজ করেন। পরে ভিডিওগুলো বিভিন্ন চটকদার শিরোনাম দিয়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রচার করেন।

এসব ভিডিও তৈরিতে সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন, আমরা মাত্র এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছি। তদন্তে এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম আমরা পেয়েছি। এছাড়া ভিডিও তৈরিতে সহযোগিতা করছে এমন কিছু হোটেল ও রিসোর্টের তথ্যও পেয়েছি। যদি কোনো অনিয়ম ধরা পড়ে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, এমন কোনো সামাজিক অপরাধের বিষয় নজরে আসলে আমরা ব্যবস্থা নেব। আমরা এরইমধ্যে টিকটক, লাইকি, ভিগোসহ বেশ কিছু অ্যাপসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এসব প্লাটফর্মে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক কলহসহ নানা অপরাধের জন্ম দিচ্ছে।