করোনায় মৃত্যু নিয়ে সরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন তথ্য

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২১

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে ৭ হাজার ৫৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অথচ বিবিএসের তথ্য বলছে, এ সময়ের মধ্যে ৮ হাজার ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্চে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর দেশে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা গেছেন ৭৩ হাজার ৮৩৯ জন। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৪ হাজার ২৮৮ জন। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে এ রোগে মৃত্যু বেড়েছে ১৯ হাজার ৫৬১ জন।

অন্যদিকে, করোনাকালীন বেড়েছে আত্মহত্যার সংখ্যাও। ২০১৯ সালে ৯ হাজার ৩১০ জন আত্মহননের পথ বেছে নিলেও ২০২০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৫৯ জনে। এছাড়া ডায়াবেটিকসে মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৯ সালে এ রোগে ২২ হাজার ৩০ জন মৃত্যুবরণ করলেও গত বছর মৃত্যু হয় ২৫ হাজার ৬ জনের।

বুধবার (১০ মার্চ) আগারগাঁওয়ে বিবিএস অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিবিএস মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম। বছরব্যাপী দেশজুড়ে ২ হাজার ১২টি নমুনা এলাকা থেকে এ তথ্য সংগ্রহ করে বিবিএস। ‘মনিটরিং দ্য সিচুয়েশনে অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ’ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় এই জরিপ পরিচালনা করা হয়।

বিবিএস সচিব জানান, কোভিডকালীন স্ট্রোক ও মাতৃত্বকালীন জটিলতায় মৃত্যু বেড়েছে। ২০২০ সালে মাতৃত্বকালীন জটিলতায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৪৭ জনের, যা আগের বছর ছিল ৭৮৭ জন। ২০২০ সালে দেশে স্ট্রোকে ৮৫ হাজার ৩৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৯ সালে ছিল ৪৫ হাজার ৫০২ জন। এ পরিসংখ্যান কোনো হাসপাতাল থেকে নেওয়া হয়নি। এলাকাভিত্তিক কিছু বাড়িকে নমুনা হিসেবে ধরে এ জরিপের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

সচিব বলেন, এ সময় অন্যান্য রোগে মৃত্যু কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৫ জনে, যা আগের বছর ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৬২৪ জন।

বিবিএসের তথ্য মতে, করোনার বছর দেশে মোট মৃত্যু হয়েছে ৮ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৩ জনের, যা আগের বছর ছিল ৮ লাখ ২২ হাজার ৮৪১ জন।