মিয়ানমার: রাতভর আটকে রাখার পর বিক্ষোভকারীদের মুক্তি

প্রকাশিত: মার্চ ৯, ২০২১

নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রাতভর আটক থাকা শতাধিক বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। সোমবার (৮ মার্চ) সারা রাত আটক রাখার পর মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সকালে তাদের মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনের পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী সোমবার রাতে প্রায় দুইশোর মতো বিক্ষোভকারীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেললে তারা ওই ভবনে আটকা পড়েন। জেলার বাইরে থেকে কেউ এসেছে কি-না তা খুঁজতে পুলিশ ওই এলাকায় বাড়িঘরে তল্লাশি করছিল। স্থানীয় অধিবাসী ও স্থানীয় একটি নিউজ সার্ভিস ফেসবুকে জানিয়েছে, অন্তত বিশ জনকে এ সময় আটক করা হয়।

এর আগে ওই অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে আটকে পড়া বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। বিক্ষোভকারীদের ওই দলটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছিল এবং তাদের চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া উচিত বলে জানিয়েছিল সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আটকে পড়া বিক্ষোভকারী দলটি ইয়াঙ্গুনের সনচুং এলাকার চার রাস্তা এলাকা থেকে বের হওয়ার সময় আটকা পড়ে। জেলার বাইরে থেকে কেউ এসেছে কি-না তা খুঁজতে পুলিশ ওই এলাকায় বাড়িঘরে তল্লাশি করছিল। এসময় সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সেগুলো বিকট শব্দ উৎপন্নকারী স্টান গ্রেনেডের শব্দ হতে পারে বলে জানায় সংস্থাটি।

এছাড়া আটকে পড়া বিক্ষোভকারীদের মুক্তি দেওযার আহ্বান জানিয়েছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও। এসময় সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করতে এবং সহিংসতা বা গ্রেফতার ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের নিরাপদে প্রস্থানের সুযোগ দিতে জান্তা সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।

গত ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই এর প্রতিবাদে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এ পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। সোমবারও দেশটিতে আরও দুইজন বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়।

সোমবার ফেসবুকে পোস্ট হওয়া ছবিতে পুলিশের গুলিতে নিহত দুই বিক্ষোভকারীর মরদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর মিতকিনায় অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রাণ হারান তারা। মিয়ানমারে অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী প্রাণ হারিয়েছেন। দুজনের মাথায় গুলি করা হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে স্টান গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ওই সময় পাশের ভবনগুলো থেকে গুলি ছোড়া হলে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

মরদেহগুলো রাস্তা থেকে সরানোর কাজে সাহায্য করেছেন এমন একজন প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, দুজনের মাথায় গুলি করা হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি