ছেলেকে নিয়ে অসহায়ত্বের শিকার মা

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২১

সুনামগঞ্জের ধনপুর গ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক হতদরিদ্র মা। রোববার (০৭ মার্চ) রাতে ধারালো দা হাতে নিয়ে ধনপুর বাজারে এসে বেশ কয়েকজনকে আঘাত করার চেষ্টা করলে লোকজন তাকে সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে লোহার শিকল দিয়ে তালা দিয়ে আটকে রাখে।

স্থানীয়রা জানান, গেল ১০ মাস ধরে সুরেশনগর গ্রামের মৃত ইজ্জত আলীর ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় এলাকাবাসী চাদা তোলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান। সেখান থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে পালিয়ে বাড়ি চলে আসে। এসে কিছুদিন ভালো ব্যবহার করে। পরে হঠাৎ একদিন সে আবার ও মারমুখী আচরণ করতে শুরু করে। যে কোনো মানুষকে মারপিট করতে থাকে। ফলে বাজার এলাকায় এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

জহিরুলের মা জহুরা খাতুন বলেন, গেল ১০ মাস ধরে সে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। বাড়িতে ও বাজারে লোকজনকে মারপিট করে। এ কারণে জহিরুলের স্ত্রী নাজমা ১ মেয়ে সন্তানসহ তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়।

ধনপুর গ্রামের আবুল হোসেন জানান, গতকাল রাতে তার ছেলেকে জহিরুল দা হাতে নিয়ে দৌড়ানি দিয়েছে। এ ছাড়া সে ছাড়া থাকলে তার মা ও পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে।

ধনপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসা করালে কিছুদিন ভালো থাকে পরে আবার সমস্যা দেখা দেয়।

ধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো হযরত আলী বলেন, পরিবারটি খুব গরিব, চিকিৎসা করানোর সামর্থ নেই। এলাকার সবাই চাদা তুলে একবার চিকিৎসা করিয়েছে। এখন আবারও রোগ দেখা দিয়েছে।

সময় সংবাদের প্রতিবেদক ঘটনার চিত্র ধারণ করার পর পরিবারের লোকজন বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখেন।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ ওসমান হায়দার মজুমদার বলেন, গতকাল আমাদের এখানে দুজন বেডে ছিলেন পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের পরিবারের লোকজনরা কোনও যোগাযোগ করেননি।

বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে অন্যায় করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।