বাঁশে ভর দিয়ে চলছে হাবিবার জীবন

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২১

অন্য শিশুদের খেলাধুলা, স্কুলে যাওয়ার সময় অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। সেও চায় অন্যদের মতো খেলতে, স্কুলে যেতে! কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। এক সড়ক দুর্ঘটনায় থমকে গেছে তার সব স্বপ্ন। পা হারিয়ে আজ সে অসহায়। বলছিলাম সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারানো শিশু হাবিবা আক্তারের (৬) কথা।

হাবিবা কী তার দুই পায়ে হাঁটতে পারবে কখনো? নাকি অর্থের অভাবে সারাজীবন এক পায়েই হাঁটতে হবে তাকে? বাবা মায়ের মনে এমন রাজ্যের হতাশা বিরাজ করছে। কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা ইটনার বাদলা গ্রামের রিকশাচালক নুরুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে এমন চিত্রই চোখে পড়েছে।

হাবিবার পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাবিবার বয়স তখন তিন বছর। নানির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কিশোরগঞ্জ শহরে যাচ্ছিল। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় হাবিবার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তারপর থেকে হাবিবার বাম পায়ের সঙ্গী বাঁশ। স্বাভাবিকভাবে চলতে শিশু হাবিবার প্রয়োজন একটি কৃত্রিম পা। কিন্তু বিধি বাম। নুন আনতে পান্তা ফুরায় যে পরিবারের তারা কীভাবে একটি কৃত্রিম পা লাগাবে?

শিশু হাবিবা জানায়, তার এক পায়ে হাঁটতে অনেক কষ্ট হয়। তার বয়সী অন্য সবাই যখন খেলাধুলা করে তখন তার মন অনেক খারাপ হয়ে যায়। তার বাম পা লাগানো হলে সে সবার সঙ্গে খেলাধুলা করবে ও স্কুলে যাবে।

হাবিবার বাবা নুরুল আমিন বলেন, রিকশা থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে কীভাবে এতো টাকা জোগাড় করব? আজ অর্থের অভাবে একমাত্র মেয়ে অসহায়ের মতো পড়ে আছে। অন্যসব বাচ্চারা যখন খেলাধুলা করে তখন অনেক কষ্ট লাগে।

ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অতিশ দাস রাজীবের সঙ্গে শিশু হাবিবার বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, সোমবার (১ মার্চ) শিশু হাবিবার পরিবারকে বলেছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে। তার পায়ের অবস্থা দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান জানান, আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে বলেছি শিশু হাবিবার পায়ের অবস্থা দেখে আমাকে জানাতে। হাবিবার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

ইটনা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুল হাসান বলেন, ইতোমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা শিশু হাবিবার চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এসেছেন। এ ছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করব।

কৃত্রিম পা লাগাতে হাবিবার বাবা সমাজের হৃদয়বানদের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন। হাবিবাকে সাহায্য করতে তার বাবার ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ০১৪০৫৩৭৬১৩৯ টাকা পাঠাতে পারেন।