পেটের দায়ে বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট এখন বাসচালক

প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২১

এক সময় ছিলেন অফ স্পিনার, দারুণ সব বাঁকে ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করা ছিল সুরাজ রানদীভের কাজ। ২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার ফাইনালে ওঠার পেছনেও কার্যকরি ভূমিকা ছিল তার। সময়ের ফেরে সেই রানদীভই কিনা এখন বাসচালক! তিনি একাই নন, অস্ট্রেলিয়ায় তার সঙ্গে স্বদেশী চিন্থাকা নামাস্তে ও জিম্বাবুয়ান ওয়েডিংটন মুয়ায়েঙ্গাও ক্রিকেটের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন বাসচালনার পেশায়।

তিনজনের কেউই অবশ্য পুরোপুরি ক্রিকেটকে বিদায় বলেননি। স্থানীয় ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলে থাকেন এখনো। তবে তাতে রুটি-রুজির বন্দোবস্ত পুরোপুরি হয়না, আর এ কারণেই ক্রিকেটের পাশাপাশি বেছে নিয়েছেন বাড়তি এক দায়িত্ব।

মেলবোর্নে ফ্রান্সভিত্তিক কোম্পানি ট্রান্সদেভ বিভিন্ন পেশার ১২০০ চালককে চাকরি দিয়েছে সম্প্রতি। তারই অধীনে এখন ভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়েছেন তিনজন।

এদের মধ্যে কেবল রানদীভই এখন খেলছেন জেলা পর্যায়ে। শ্রীলঙ্কান এই স্পিনার ড্যানডেনং ক্রিকেট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করছেন যার যোগ আছে ভিক্টোরিয়া প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সঙ্গে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অধীনে বিভিন্ন রাজ্য প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে থাকে ক্লাবটি। জেমস প্যাটিনসন, পিটার সিডল ও সেরাহ এলিয়ট অতীতে খেলছেন ক্লাবটির হয়ে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে ১২ টেস্টে ৪৩ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ৩১ ওয়ানডেতে তুলে নিয়েছিলেন ৩৬ উইকেট, আর ৭টি টি-টোয়েন্টি খেলে শিকার করেছিলেন ৭ উইকেট। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া-ভারতের টেস্ট সিরিজে ডাক পড়েছিল তার। উদ্দেশ্য, ভারতের মুখোমুখি হওয়ার আগে অজি ব্যাটসম্যানদের স্পিন-প্রস্তুতিতে শান দেওয়ায় সাহায্য করা।

সম্প্রতি স্থানীয় নাইন নিউজে এক ভিডিওতে তিনি জানান এ কথা। বলেন, ‘আমাকে সিএ তাদের ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে অনুশীলন সেশনে বল করার কথা বলেছিল। আমিও এ সুযোগটা হারাইনি।’

রানদীভের মতো পরিচিত মুখ না হলেও চিন্থাকা ও ওয়েডিংটন খেলেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে অভিষেকের পর চিন্থাকা শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করেছেন ৫ টি-টোয়েন্টিতে, করেছেন ৪৯ রান। আর জিম্বাবুইয়ান মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ওয়েডিংটন জাতীয় দলের হয়ে ২০০৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১ টি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ।

তবে ক্রীড়াব্যক্তিত্বদের খেলা ছেড়ে দেয়ার পর এমন সংগ্রাম নতুন কিছু নয় মোটেও। গেল বছরই যেমন সামনে এসেছিল সাবেক তুরস্ক ফরোয়ার্ড হাকান শুকুরের বর্তমান জীবন। ২০০২ বিশ্বকাপে রীতিমতো তারকা বনে যাওয়া এই ফুটবলার এখন সেই অস্ট্রেলিয়াতেই উবারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।