ধর্ষণ মামলার আসামী গাজী সালামকে গ্রেফতারের দাবি!

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত, ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী (মামলা নং-৫৮/১৮, বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০৬), বিভিন্ন প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত গাজী আব্দুস সালামকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক-শিক্ষকরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতীয় অধ্যাপক এম আর খানের হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান দখলকারী গাজী আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ থাকলেও তিনি রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। গাজী সালামের বিরুদ্ধে করা এক ভুক্তভোগী শিক্ষিকার ধর্ষণ মামলা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সেই ভুক্তভোগী নারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন তার স্ত্রী ইলোরা পারভীন। সেই মামলায় আসামী করা হয়েছে তারই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষককেও। এমনকি তার আপন দুই ভাই গাজী মাহবুবুল আলম এবং ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদকে সেই মামলায় আসামী করেছেন তিনি। অথচ গাজী আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ শতভাগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে পুলিশের তদন্তে। গাজী সালাম নিজের ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে নিজেই তা দিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে ব্লাকমেইল করেছেন। পরে নিরুপায় হয়ে সেই নারী গণমাধ্যমে প্রতিকার চেয়ে বক্তব্য দেয়ায় সেই আইসিটি আইনে মামলার শিকার হয়ে আদালতে ঘুরছেন। অথচ ধর্ষণ প্রমানিত হবার পরও গাজী সালাম গ্রেফতার না হয়ে উল্টো জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এর আগে এই গাজী সালামের নানা অপকর্মের প্রতিবাদে গত ২০ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে প্রয়াত ড. এম.আর খানের একমাত্র মেয়ে ড.ম্যান্ডি কারিম সংবাদ সম্মেলন করেন। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ড. এম আর খানের মেয়ে জামাই রেজা করীম বলেন, সকল তথ্য প্রমাণ নিয়ে সেই সংবাদ সম্মেলন করলেও গাজী সালাম ড.এম.আর খানের পরিবারকে একটি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
তথাকথিত গাজী এম.এ.সালামের বিরুদ্ধে জায়গা দখল, বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ভাড়া না দিয়ে জোর করে দখল করা; নিজ অফিসে গোপন রুম করে বিভিন্ন নারীর শ্লীলতাহানী ও ধর্ষন করার অভিযোগ রয়েছে একাধিক।
অভিযুক্ত গাজী সালাম মিরপুর-১৪ তে জাহাঙ্গীর টাওয়ার নামে একটি বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ভাড়া না দিয়ে উল্টো দখল করার চেষ্টা চিলিয়েছে বলে জানিয়েছে জাহাঙ্গীর টাওয়ারের মালিক। বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তথাকথিত প্রফেসর গাজী এম.এ.সালাম জাতীয় অধ্যাপক এম.আর খানের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং ড.এম.আর খানের অর্জন “স্বাধীনতা পদক” নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
গাজী সালাম দাবি করেছে, সে নাকি প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে লবিং করে ড.এম.আর খানকে স্বাধীনতা পদক পাইয়ে দিয়েছে। এখানে সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা পদক দেয়ার সিদ্বান্তকেও চ্যালেঞ্জ ছূড়ে দিয়েছে।
কোন কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনদিন লেকচারার, এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, এসোসিয়েট প্রফেসর না থেকেও নিজের নামের আগে সরাসরি প্রফেসর যোগ করে দিয়েছেন তিনি।
প্রফেসর ড.এম.আর খান সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটি কোটি টাকা ইনভেস্ট করা ট্রাস্টি বোর্ডের মেম্বারদেরকেও সিগনেচার জালিয়াতি করে ট্রাস্টি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে এই গাজী সালামের বিরুদ্ধে। সাংবাদিক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ও বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও প্রমাণিত এই গাজী সালামের গ্রেফতারের জোর দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে। বক্তারা আরো বলেন,
সত্য নিউজ প্রকাশে হয়রানিমূলক মামলায় যখন সাংবাদিক বেকায়দায় পড়েন, অথচ ক্রিমিনালরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়ায়।
এই গাজী সালাম গংদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।