মুশতাকের মৃত্যু তদন্তে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবে মানবাধিকার কমিশন

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের (৫৩) মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন করে কমিশনকে জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবে কমিশন।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহানা সাঈদ স্বাক্ষরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গণমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তায় বলা হয়, গত বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কথাবার্তা ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তার (মুশতাক) বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‌্যাব।

কমিশন মনে করে, অনাকাঙ্খিত যেকোনো মৃত্যু সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুর দায় রাষ্ট্র বা তার অধীনস্থ কোনো সংস্থা কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দিন হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মুশতাক আহমেদের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর মরদেহ মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের আল মারকাজুল ইসলাম বাংলাদেশে রাখা হয়। ময়নাতদন্তে তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. শাফী মোহাইমেন।

শুক্রবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে মুশতাক আহমেদকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে এশার নামাজের পর লালমাটিয়ার মিনার মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তার পরিবারের সদস্যরাসহ বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, কারাগারে মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টিকে ‘রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এ লেখকের মৃত্যুতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগে আন্দোলনও করেছে। আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্রজোটের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া তিনজনকে আটক করা হয়েছে।