আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পেলেন তিন ব্যক্তি এক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

মাতৃভাষা সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন, বিকাশ, চর্চা, প্রচার-প্রসারে অবদানে স্বীকৃতির জন্য জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ তিন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ দিয়েছে সরকার।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে প্রথমবার ২০২১ সালের এই সম্মাননা পদক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।

জাতীয় পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবারের এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে। জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতিসরূপ এই সম্মাননা পেয়েছেন খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ এবং লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস বাংলাদেশ সরকারের এই সম্মাননা পেয়েছে।

পদক হিসেবে ১৮ ক্যারেট মানের ১৫ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং চার লাখ টাকা বা পাঁচ হাজার ডলার দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেওয়া এ পদক বিতরণের জন্য ২০১৯ সালে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালকের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করেছে।

পদকপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম জাতীয় অধ্যাপক। তিনি দেশের প্রথম নজরুল গবেষক। রফিকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক ও অত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নজরুল-গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক।

মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা খাগড়াছড়ির খাগড়াপুর এলাকার জাবারং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক। তিনি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। আর ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ উজবেকিস্তানের ভাষা নিয়ে গবেষণাসহ দেশটির ভাষা রক্ষায় ব্যাপক অবদান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস বাংলাদেশ সরকারের এই সম্মাননা পেয়েছে।