তিন দিনের ছুটিতে কক্সবাজারে জনসমুদ্র

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

কক্সবাজারে ঢল নেমেছে পর্যটকের। টানা তিন দিনের ছুটিতে পর্যটননগরী কক্সবাজারে প্রায় ১০ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউসে জায়গা নেই। হোটেল-মোটেল-কটেজে জায়গা না পেয়ে হাজারো পর্যটক সৈকতের বালুচরে পায়চারি করছেন। কেউ ঘুরছেন রাস্তায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত সমুদ্রের এ শহরে পৌঁছান পর্যটকরা। হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস, রাস্তাঘাট, দোকানপাট ও সৈকত এখন পর্যটকে মুখর। শুক্রবার বিকেলে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা যায়।

২১ ফেব্রয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও সাপ্তাহিক টানা তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় কক্সবাজার ভ্রমণের সব টিকেট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস ছাড়াও বিমান ও বাসের টিকেট বুকিং ছিল। এখনো বুকিং কল পাচ্ছেন; তবে জায়গা দিতে পারছেন না হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ পর্যটকে পরিপূর্ণ। সমুদ্রসৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, ইনানী, হিমছড়িসহ ছয়টি পয়েন্ট ছাড়াও দরিয়ানগর, হিমছড়ি ঝরনা, রামুর বৌদ্ধ বিহার, রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, দুলাজাহারা সাফারি পার্ক, সোনাদিয়া ও সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকে মুখর। কোথাও পা ফেলার জায়গা নেই। সৈকতে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছেন পর্যটকরা। অনেক পর্যটক রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছেন। রাস্তায় অন্যত্র রাত্রিযাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তাদের।

ঢাকা থেকে আসা রুবেয়া হায়াৎ বলেন, করোনার পর একেবারে কোথাও যাইনি। এখন কক্সবাজারে এলাম। প্রচুর মানুষ। পা ফেলার জায়গা নেই। তবে একসঙ্গে এত মানুষ দেখে ভালো লাগছে। সবাই মিলে আনন্দ উদযাপন করব। করোনার পর ঘুরতে এসে সবার অবস্থা আমার মতোই।

সিলেট থেকে আসা জামাল আহমেদ বলেন, করোনা আমাদের জন্য কালো ছায়া হয়ে এসেছিল। আল্লাহর রহমতে সবকিছু স্বাভাবিক হতে চলেছে। তাই পরিবার নিয়ে ঘুরতে এলাম। পরিবারের সদস্যদেরও একটু সময় দিতে হয়। একটু স্বস্তি তারাও চায়। এজন্য একসঙ্গে ঘুরতে এলাম।

রংপুর থেকে আসা নাসরিন আক্তার ও জিহাদুর রহমান দম্পতি জানান, বিয়ের পর কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। চাকরিসহ নানা কারণে ব্যস্ত ছিলেন তারা। তিন দিনের ছুটি পেয়ে চলে এলেন ঘুরতে। তবে প্রচুর পর্যটক দেকে একটু অস্বস্তি লাগছে তাদের।

হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। এখনো অনেকেই আসছেন। কিন্তু সাড়ে শতাধিক হোটেল-মোটেলের সব রুম বুকিং হয়ে গেছে। থাকার জায়গা নেই। রুম না পেয়ে রাস্তা ও সৈকতে ঘুরছেন অনেক পর্যটক।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, করোনার পরিস্থিতির পর এই প্রথম বিপুল পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। হোটেল-মোটেলের সব রুম বুকিং। অনেক পর্যটক হোটেল-মোটেলে জায়গা না পেয়ে রাস্তা ও সৈকতে অবস্থান করছেন। এত পর্যটক এর আগে কক্সবাজারে এসেছে বলে আমার জানা নেই।

হোটেল কক্স টুডের ডেস্ক ম্যানেজার আবুল তালেব বলেন, প্রচুর পর্যটক এসেছেন। একটা রুমও খালি নেই। হোটেলের মেঝেতেও জায়গা নেই। অনেক পর্যটককে সড়কে ঘোরাঘুরি করতে দেখলাম। করোনায় যে লোকসান হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পারব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনার পর কক্সবাজারে প্রায় ১০ লাখ পর্যটক এসেছেন। তবে সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেলে প্রায় দুই লাখ পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। বাকি পর্যটকদের কেউ আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি এবং অন্যত্র থাকেন। অন্য পর্যটকরা কোথায় থাকবেন তা নিয়ে চিন্তার বিষয়। অনেক পর্যটককে রাস্তায় রাত কাটাতে হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের এসপি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, সমুদ্রসৈকতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। হোলেট মালিকরা বলছেন প্রায় ১০ লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হয়েছে। তবে সবার নিরাপত্তা দিতে আমরা প্রস্তুত।

তিনি বলেন, রাতে মোটরসাইকেলে টহল দেবে পুলিশ। কলাতলী রোডে মোটরসাইকেল টহলে থাকার পাশাপাশি পোশাক ও সাদা পোশাকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে।

পর্যটক সমাগমের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি কতটুকু মানা হচ্ছে তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী (পর্যটন সেল) মুরাদুল ইসলাম বলেন, বিপুল পর্যটক এসেছেন। স্বাস্থ্যবিধির ওপর কড়া নজর রাখছি আমরা। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথাও চিন্তা করছি আমরা। তবে হোটেল-মোটেল ও সমুদ্রসৈকতে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কারণ ইতোমধ্যে কয়েক লাখ পর্যটক এখানে এসেছেন। কোথাও জায়গা নেই। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভবও না।