জীবিতকে মৃত দেখিয়ে ভাতা তালিকা থেকে নাম কর্তনের অভিযোগ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১
জীবিতকে মৃত দেখিয়ে ভাতা তালিকা থেকে নাম কর্তনের অভিযোগ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিধবা ভাতাভোগী হতদরিদ্র রাবিয়া বেগমকে (৯০) মৃত দেখিয়ে তালিকায় স্বধবা শাহানাজ বেগমের নাম প্রতিস্থাপন করে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে।

শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় ভুক্তভোগী রাবিয়া বেগম স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ অভিাযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১০ সালে খাউলিয়া ইউনিয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিধবা ভাতাভোগী হিসেবে পূর্ব চিপাবারইখালী গ্রামের স্বামী হারা অসহায় বৃদ্ধা রাবিয়া বেগমের নাম ০০৯ নম্বর কার্ডধারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাবিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী শেখের স্ত্রী। তালিকা অনুযায়ী প্রতি মাসে ৫০০ টাকা ভাতা হিসেবে উত্তোলন করে আসছিলেন রাবিয়া বেগম।

কিন্তু হঠাৎ করে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর স্থানীয় রিমা বেগম নামের একজন ব্যাংকে চাকরি করেন বলে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগী রাবিয়া বেগমকে সংঙ্গে নিয়ে স্থানীয় অগ্রণী ব্যাংকে আসেন এবং তার টিপ সহি নিয়া ২০১৯ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট নয় হাজার টাকা উত্তোলন করেন।

উত্তোলনকৃত টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা রাবিয়াকে দেয়া হয় এবং কার্ড সংশোধন করতে প্রয়োজন হবে বলে ৪ হাজার টাকা ও ভাতা উত্তোলনের কার্ডটি রেখে দেয় রিমা বেগম।পরবর্তীতে রাবিয়া বেগম কার্ডটি ফেরত চাইলে রিমা জানান, তার কার্ডটি ইউপি চেয়াম্যানের ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহিমের কাছে জমা আছে। পরে নিরুপায় হয়ে বৃদ্ধা রাবিয়া বেগম ওই সচিবের কার্যালয়ে গেলে রহিম জানান, তার কার্ডটি মৃত বলে চালিত হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাবিয়া বেগমের বিধবা ভাতা কার্ডটির বর্তমান সুবিধা ভোগী শাহানাজ বেগম তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদারকে নিয়ে ওই ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামে বসবাস করছেন।

এ বিষয় জানতে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল খায়ের জানান, রাবিয়া বেগমকে মৃত দেখিয়ে তার নাম বাদ দিয়ে অন্য জনের নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। তবে বিয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যেহেতু রাবেয়া বেগম জীবিত, সেহেতু পুণরায় তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হান কবির জানান, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। যদি এরকম ঘটনা ঘটে তবে অবশ্যই বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ঘটেছে। যা অপরাধের আওতায় পড়ে।

এদিকে জীবিত ওই নারীকে মৃত দেখিয়ে অন্যজনের নাম তালিকাভুক্ত করায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশসহ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।