পাশ করল ক্লিনিকে লাশ হওয়া সেই তানিয়া

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১

নওগাঁর ধামইরহাটে সরকারি এমএম ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মানবিক বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার মিমের স্বপ্ন ছিল একজন সেবিকা হয়ে মানুষের সেবা করার। বাবা-মার অভাবের সংসারে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন পূরণের লক্ষে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাকুরিও নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই চাকুরিই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়।

মহামারি করোনায় পরীক্ষা ছাড়াই গত ৩০ জানুয়ারি এইসএসসি ও সমমানের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, তানিয়া আক্তার মিম জিপিএ-২.৯২ পেয়ে পাশ করেছে। ফলাফল পেয়ে মিমের বন্ধু-বান্ধবীরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠলেও মিমের পরিবারে নেই সে আনন্দের ছিঁটে ফোটাও। কারণ এই উৎসব মুহূর্তে মিম যে নেই তাদের মাঝে। তার এই ফলাফল তাই পরিবারের কাছে আক্ষেপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর পত্নীতলা ইসলামীয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটি কক্ষ থেকে তানিয়া আক্তার মিমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ক্লিনিকে এক বছর যাবৎ নার্স ও রিসিপশন বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছিল সে।

তানিয়া আক্তার মিম ছিলেন উপজেলার ধামইরহাট ইউনিয়নের মইশর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। এ ঘটনায় তানিয়ার বাবা মো. মিজানুর রহমান জানান, আমার মেয়ে শৈশব থেকে খুব গোছালো স্বভাবের ছিল। তাকে হারিয়ে আমরা খুবই ভেঙে পড়ি। তার এই ফলাফলে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।

মামলার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, তিন জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেছিলাম। পিবিআই এক নম্বর আসামি মো. নিজাম উদ্দিন বাবুকে গ্রেফতার করলেও বাকি দুই আসামি এখনও পলাতক বলে জানা গেছে।