২.১৫ ডলারের ভ্যাকসিন বাংলাদেশ কিনবে ৫ ডলারে: কারা খাচ্ছে মেওয়া ফল?

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২২, ২০২০

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন কিনতে বাংলাদেশকে গুণতে হবে ১৫ কোটি ডলার। সূত্র বলছে, সরাসরি অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা থেকে কিনলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য খরচ হতো প্রায় ৬.৪৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ ভারত থেকে ভ্যাকসিন আনতে সরকারকে অতিরিক্ত গুণতে হবে প্রায় ৮.৫৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশী টাকায় যা ৭২৬ কোটি টাকারও বেশি।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার টিকাটি অনুমতি সাপেক্ষে ভারতে তৈরি করবে। আর বাংলাদেশ সরাসরি এস্ট্রাজেনেকা থেকে না কিনে ভারত থেকে আনবে ভ্যাকসিন। অবশ্য ভারত থেকে সরাসরি ভ্যাকসিন পাচ্ছেনা সরকার। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আনবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। আর বাংলাদেশ সরকার বেক্সিমকো থেকে প্রতি ডোজ ৫ ডলার মূল্যে মোট ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কিনবে।
এদিকে গতকাল (১৯ ডিসেম্বর) প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ বেলজিয়ামের বাজেট স্টেট মিনিস্টার ডি ব্লিকারের উদ্ধৃতি দিয়ে করোনা ভ্যাকসিনের মূল্য বিষয়ক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে ব্লিকারের টুইটকৃত বিভিন্ন কোম্পানির করোনা ভ্যাকসিনের মূল্য তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায় অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা উৎপাদিত প্রতি ডোজ করোনা ভ্যাকসিনের মূল্য ১.৭৮ ইউরো বা ২.১৫ ডলার। এছাড়াও সানোফি-জিএসকে, ফাইজারের ভ্যাকসিনের মূল্য যথাক্রমে ৭.৫৬ ও ১২.১ ইউরো।

ইউরোপিও ইউনিয়ন প্রতি ডোজ অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন কিনতে খরচ করবে ২.১৮ ডলার। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচ পড়বে ডোজ প্রতি ৩ থেকে ৪ ডলার। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ সিরাম-বেক্সিমকোর সাথে চুক্তি না করে সরাসরি এস্ট্রাজেনেকার সাথে চুক্তি করলে ইইউর চেয়েও কম দামে ভ্যাকসিন পেতে পারতো। অধ্যাপক মোজাহেরুল হকের মতে, “দরিদ্র দেশ হিসেবে ইউরোপিয় ইউনিয়নের দামে হয়তো বাংলাদেশকে প্রতিটি টিকা কিনতে হতো না। আরো কম দামেই সরকার তা পেতে পারতো সরাসরি ওই কোম্পানির সাথে চুক্তি করলে।”

কিন্তু সিরাম-বেক্সিমকোর সাথে চুক্তির কারণে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতি ডোজ ভ্যাকসিন পেতে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে ২.৮৪ ডলার, যার বাংলাদেশী মূল্যমান ২৪১.৪ টাকা। আর ৩ কোটি ডোজ ভ্যাক্সিন কিনতে গিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অতিরিক্ত খরচ ৭২৫ কোটি টাকারও অধিক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এস্ট্রাজেনেকা থেকে সরাসরি ভ্যাকসিন না কেনায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান সিরাম ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশী বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান হলেও বিরাট অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে সরকারকে। সরকার চাইলে এখনো এস্ট্রাজেনেকার সাথে সরাসরি চুক্তির সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন।

banglaobservers