কবিগুরুকেও অসম্মানিত করলেন অমিত শাহ!

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২০

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পোস্টারে এবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’এর ছবির নিচে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি রাখাকে কেন্দ্র করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অমিত শাহকে সম্মান জানানোর জন্য রঙ-বেরঙের ব্যানার-পোস্টার লাগিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি।
সেসব পোস্টার-ব্যানারে অমিত শাহের ছবির পাশাপাশি বিজেপি নেতাদেরও ছবি রয়েছে। কিন্তু পোস্টার-ব্যানারে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি রাখা নিয়েই সমালোচনা হচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিজেপি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সম্মান জানাতে কলকাতা শহর রঙ-বেরঙের ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছে। যেখানে অমিত শাহের পাশাপাশি স্থানীয় বিজেপি নেতাদের ছবি রয়েছে। সেইসঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও পোস্টারে রাখা হয়েছে।
কিন্তু কবিগুরুর স্থান পাওয়া সেই পোস্টার নিয়েই এবার শুরু হয়েছে বিতর্ক। কারণ সেখানে বিশ্ব কবির চেয়েও অমিত শাহকে ‘সম্মানিত’ করা হয়েছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, বোলপুরে টাঙানো একটি ব্যানারে দেখতে পাওয়া যায়, ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবির নিচে রাখা হয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি। এর নিচে বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার ছবিও রয়েছে।
এ ঘটনায় যার পর নেই ক্ষেপেছেন রবীন্দ্রনাথের ভক্তরা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে তুমুল সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিশ্ব কবির ছবি কেন একজন মন্ত্রীর ছবির নিচে? তাহলে কি রবীন্দ্রনাথের চেয়ে অমিত শাহের সম্মান বেশি?

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরেকটি পোস্টার নিয়েও চলছে বিতর্ক। যা টাঙানো হয়েছে বিশ্বভারতীর সামনে। সেখানে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথের অবয়বে একটি ক্যালিগ্রাফি আঁকা হয়েছে। তার উপরেই রয়েছে বিজেপি নেতা অমিত শাহের ছবি।

হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, এ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। টুইটারে দলটির পক্ষ থেকে অমিত শাহ ও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে সীমার মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো গুণী ব্যক্তিকে অপমান করার সাহস হয় কীভাবে?
অমিত শাহকে উদ্দেশ করে এতে বলা হয়েছে, আপনি নিজেকে গুরুদেবের উপরে রাখছেন। যা অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। এসব কখনো ক্ষমা করবে না পশ্চিমবঙ্গের মানুষ।

এদিকে, কবিগুরুর ছবির এই অবমাননার প্রতিবাদ জানিয়েছেন শান্তি নিকেতনের সাবেক শিক্ষার্থীরাও। তাদের অভিযোগ, মনীষীদের সম্মান জানাতে হলে ব্যানার-পোস্টারে তাদের ছবিই সবার উপরে রাখার নিয়ম। কিন্তু বিজেপি তাদের পোস্টারে তার উল্টোটা ঘটিয়েছে।

তবে রাজ্যের বিজেপি নেতারা এই ঘটনার জন্য উল্টো তৃণমূলকেই দায়ী করছেন। দলটির সর্বভারতীয় সংগঠনের সম্পাদক অনুপম হাজরা বলছেন, এই কাজ কে বা কারা করেছে, তা তারা জানেন না। এগুলো তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ব পরিকল্পিত হতে পারে বলেও মত তার।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়াম স্বামী রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘জনগণমন’ জাতীয় সংগীত বাতিল করে সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজের গাওয়া ‘শুভ সুখ চ্যায়েন’ গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত করার প্রস্তাব করেন। এ নিয়ে তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি লিখলে তার প্রাপ্তি স্বীকার করেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ বাঙালি হওয়ায় এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে যখন আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন নতুন এই বিতর্কের সৃষ্টি।