অষ্ট্রেলিয়ায় একদশকে পা রাখলো পাঠশালা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২০

রিপোর্ট: মোশারফ হোসেন নির্জন।
পাশ্চাত্য সভ্যতার দেশে ভিনদেশী ভাষা ও সংস্কৃতির ভিড়ে বাংলা চর্চার কি তেমন সুযোগ থাকে? জ্বি, সুযোগতো আছে বটেই; প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলার জয়জয়কার করতে আছে পুরোদমের বাংলাস্কুলও। আর তাদেরই একটি পাঠশালা বাংলা স্কুল।
অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত বাচ্চাদের বাংলা শিখানোর বাতিঘর এই বিদ্যালয়টি ইতিমধ্যে ছুয়েছে নতুন এক মাইলফলক।প্রবাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা নিকেতন হিসেব দশ বছর ধরে নিজের অস্তিত্ব ধরে রেখেছে। দীর্ঘ এক দশকে বহু শিশো কিশোরের বাংলায় অনুভতি প্রকাশ করার অভূতপূর্ব স্বাদ দিয়েছে স্কুলটি; পাশাপাশি, দেশীয় শিষ্টাচারে শিশুদের আচ্ছন্ন করে তুলতেও মরিয়া এই প্রতিষ্ঠানটি। নিজেদের অর্জনগুলোর তুলেধরতে গতকাল রবিবার দশবছর পূর্তির এক আনুষ্ঠানিক আয়োজন করে পাঠশালা বাংলা স্কুল কমিটি।
পার্থের ক্যানিংভেল কমিউনিটি সেন্টারে এক ঘরোয়া পরিবেশে এতে আয়োজিত হয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও একটি মিলনমেলা।ওয়েষ্টার্ণ অষ্ট্রোলিয়ার স্থানীয় সরকারের মাননীয় মেয়র মহোদয়সহ স্কুলপরিচালনা কমিটি, পৃষ্ঠপোষক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপিস্থিত থেকে উৎসাহ প্রদান করেন সংশি্লষ্ট সবাইকে।তারপর সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেন নিজেদের পরিবেশনা ।পরপরই পুরস্কার বিতরণী পর্ব ও কেক কেটে দশ বছর পূর্তির উচ্ছাস্ব প্রকাশ করা হয়। তারপরে বিভিন্ন খাবারের সংযোযনে করা হয় আতিথিয়তা ।
স্কুলটির পরিচালক হিসেবে আছেন কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী শিক্ষক প্রবীর সরকার, তিনি জানান প্রতিষ্ঠানটি সন্তানের মতো আগলে রাখতে সক্রিয় আছেন পুরোটিম ও শিক্ষকবৃন্দরা। প্রধান শিক্ষক প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা সাহা জানান, এখানে বাংলায় শিশুদের সকল রকমের শিক্ষা দেওয়া হয়, যাতে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি তাদের টান অনুভব হয়; বাংলাদেশে গিয়ে স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারে, শিষ্টাচার দেখাতে পারে।বিদ্যালয়টির রেজিষ্টার বিভাগে দায়িত্বরত রুপম বড়ুয়া জানান প্রবাসে বাংলাটাকে আগলে রাখতে আমরা আরো বেশী কাজ করতে চাই, বাচ্চারা বাংলাটা যেন মিস না করে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (বাওয়া) পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পাঠশালা বাংলা স্কুল। ২০১১ সাল থেকে স্কুলটি অস্ট্রেলিয়ার পার্থে বাংলা ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম সুনামের সহিত চালিয়ে আসছে এবং এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রতিশুতিবদ্ধ নেপথ্যের নায়করা।