জাতীয় প্রেসক্লাবে বঞ্চিত শিক্ষকদের মানব বন্ধন

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০১৯

জাতীয় করনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের গেজেটভুক্তি করন ও সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন সহ সকল ক্ষেত্রে ৫০% কার্যকর চাকুরিকাল গননা করার দাবীতে বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন প্রায় দেড় হাজার বঞ্চিত শিক্ষক৷ বক্তারা বলেন, আমলা তান্ত্রিক জটিলতার কারনে জাতীয়করনকৃত প্রায় ৬০০০ প্রধান শিক্ষক গেজেটভুক্ত হতে পারছেন না। ২০১৩ সালের পহেলা জানুয়ারী ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়কে জাতীয় করনের ঘোষনা দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাথে ৪জন সহকারী ও একজন প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির ঘোষনা দেয়া হয়। সেই ঘোষনা অনুযায়ী ২৬হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের জন্য ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টির কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৭/১৮হাজার জনকে প্রধান শিক্ষকের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বাকি শিক্ষকদের ব্যাপারে সেই ২০১৩ সাল থেকে দফায় দফায় বসেও গেজেটে অন্তর্ভুক্তি না করে প্রায় ৬হাজার শিক্ষককে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। সকল যোগ্যতা থাকার পরেও সম্পুর্ন অন্যায় ভাবে আমাদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে গেজেট ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হই এবং মো. শাহজামাল গং ১৪৩৪৪/১৭ নং রীট পিটিশন মামলা সহ প্রায় ৫০০টি রিট পিটিশন মামলা করি। মহামান্য হাইকোর্ট এই রিট পিটিশন মামলায় “রিট প্রদানকারী শিক্ষকগন অবসর গ্রহন কালীন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে সংস্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকবেন” মর্মে আদেশ প্রদান করেন। মহামান্য আদালতের এই আদেশ উপেক্ষাকরে উল্লেখিত প্রধান শিক্ষকদের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বাধ্যকরা হচ্ছে।

শত শত মামলা হবার পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাননীয় মহাপরিচালক ড.মোহাম্মদ আবু হেনা মোস্তফা কামাল এন ডি সি গত ২৫শে অক্টোবার, ২০১৮ তারিখে জাতীয় করনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রধান শিক্ষক গেজেটভুক্ত না হওয়ায় প্রধান শিকক্ষকের গেজেটভুক্ত করতে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাননীয় সচিব মহোদয় বরাবর কিছু কাগজপত্র সহ একটি ফাইল প্রেরন করেন। তৎকালীন মাননীয় মন্ত্রী জনাব মো.মোস্তাফিজুর রহমান উক্ত ফাইলটি সচিব মহোদয়কে উপস্থাপনের আদেশ দিলেও অজ্ঞাত কারনে অদ্যবদি সেই ফাইলটি উপস্থাপন করা হয় নি। এমতাবস্থায় বছরের পর বছর পদ বঞ্চিত শিক্ষকরা যেমন প্রাপ্য বেতন স্কেল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ঠিক একই ভাবে সামজিক মর্যাদা ক্ষুন্য হচ্ছে। একই সাথে বিদ্যালয় পরিচালিনায় নানা প্রতবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছেন বলে জানান তারা এমতাবস্থায় কর্মরত পদবঞ্চিত প্রধান শিক্ষকদের দ্রুত গেজেটভুক্তির দাবীও জানান। সেই সংগে সহকারী শিক্ষকদের গ্রেডেশন সহ সকল ক্ষেত্রে ৫০% কার্যকর চাকুরিকাল গননা করে পদোন্নতি, টাইম স্কেলসহ সমস্ত সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারেও বঞ্চিত শিক্ষকদের পক্ষথেকে জোর দাবি জানানো হয়।

সূত্রঃ ডি/এম/১০৯৩